মুক্তিযুদ্ধ

রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্রও পৌঁছায় না ক্যাপ্টেন বেগের কাছে

১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এলিট ফোর্স ‘এসএসজি’র কমান্ডো ছিলেন তিনি। নিশ্চিত মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পালিয়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। ৯ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হয়েও স্বাধীন বাংলাদেশে পাননি যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি।

১৯৭১ সাল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে থাকা বাঙালি অফিসারদের অনেকেই পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কৌশলে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেক্টর কমান্ডার বা সাবসেক্টর কমান্ডারও হন। পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মনোভাব, বাঙালি অফিসারদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং ওই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যারাকে সামরিক প্রস্তুতির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বাঙালি অফিসাররা। তাই তাদের ভাষ্য থেকে উঠে আসা নানা ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যা বাঙালির সাহসের ইতিহাসকেই মূর্ত করে।

একাত্তরে জীবন বাজি রেখে কীভাবে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি অফিসাররা? একাত্তরের ওই দুঃসাহসিক ইতিহাস জানতেই মুখোমুখি হই এক কমান্ডারের।

বরিশাল শহরের সন্তান সাব-সেক্টর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজ আলম বেগ, ‘ক্যাপ্টেন বেগ’ নামেই যিনি বেশি পরিচিত। থাকতেন করাচিতে। ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (এসএসজি) একজন এলিট কমান্ডো।

পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসার ঘটনাটি তিনি বললেন যেভাবে, “আমাদের মধ্যে কিছু ইন্টেলিজেন্সের লোকজন ছিল। তাদের মুখেই শুনতাম পূর্ব পাকিস্তানে কিছু একটা ঘটবে। উদগ্রীব হতাম তখন।

একদিন করাচি নেভাল পোর্টে ফিশিং করতে গিয়ে দেখি পূর্ব পাকিস্তানে যাওয়ার জাহাজে হেভি আর্মস অ্যামুনেশন লোড করা হচ্ছে। তখনই বুঝে যাই ওরা খারাপ কিছু ঘটাবে। কিন্তু কমান্ডো হয়ে তো বসে থাকতে পারি না!

১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। কয়েক দিনের ছুটিতে দেশে আসি। সুলতান সাহেব ও নূর মোহাম্মদ ভাই ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন। তাদের সঙ্গেই মিটিংয়ে বসি। তখনই পরিকল্পনা হয় দেশে খারাপ কিছু ঘটার আগে তারাই করাচিতে আমাকে মেসেজ পাঠাবেন। ফিরে এসে তাদের সঙ্গে যুক্ত হব।

এরপর পাকিস্তান ফিরে গেলাম। হঠাৎ একদিন কমান্ডিং অফিসার টি এ খান একটি টেলিগ্রাম হাতে ছুটে আসেন। টেলিগ্রামে লেখা, ‘মাদার সিরিয়াস কাম শার্প’। বুঝে গেলাম পরিকল্পনা মোতাবেক এটি নূর মোহাম্মদ ভাই পাঠিয়েছেন।

‘মাদার’ মানে মাতৃভূমি। আর ‘সিরিয়াস’ লিখলে বুঝতে হবে যেভাবেই হোক ফিরতে হবে।

টি এ খান ছুটি দিতে চাইলেন না। কিন্তু আমি নিজেকে সংযত রাখলাম। আসলে পালিয়ে যাব এটা বুঝতে দিলাম না তাকে। কারণ তখন ওরা নানাভাবে আমাদের সন্দেহ করত।

যুদ্ধকালীন সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ক্যাপ্টেন বেগ (ডানে)।

ফরমাল ছুটি না নিয়েই পালানোর পরিকল্পনা আঁটছি। টাকার প্রয়োজনে শখের মোটরসাইকেলটাও বিক্রি করি নয়শ টাকায়। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল এম এ ওয়ালি। দেশ নিয়ে সেও ছিল চিন্তিত। পরিকল্পনার কথা শুনে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করল। রাজি হলাম। কিন্তু প্লেনের টিকিট তো নাই। অলরেডি পাকিস্তান থেকে লোকজন আসা বন্ধ। শুধু হাজিদের ফ্লাইট ওপেন ছিল।

কী করি?

তখন মনে পড়ে লেফটেন্যান্ট ইমতিয়াজের কথা। পাকিস্তানের বাইশ ফ্যামিলির, ধনী পরিবারের সন্তান। চেরিয়ট ট্রেনিংয়ে আমি ছিলাম তার ট্রেনার। একবার সে প্রায় ৬০ ফিট পানির নিচে চলে যায়। ফলে আনকনশাস অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচিয়েছিলাম। ওই থেকেই পরিবারিকভাবে একটা বিশ্বস্ত সম্পর্ক ছিল তার সঙ্গে।

পাঞ্জাবি হলেও তার কাছেই সাহায্য চাইলাম। সেও সব কিছু গোপন রেখেছিল। পাকিস্তান এয়ারলাইন্সে চাকরি করতেন তার এক আত্মীয়। তার মাধ্যমেই দুটো টিকিট জোগাড় করে দেন ইমতিয়াজ। রাত দুটোর ফ্লাইটে পাকিস্তান থেকে রওনা হয়ে ৪ মার্চ ১৯৭১ তারিখ ভোরে পৌঁছি ঢাকায়।”

মাহফুজ আলম বেগ আসার পর ওখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় কিছু করার পরিকল্পনা করেছিলেন তারই ঘনিষ্ঠ বাঙালি অফিসাররা। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। ফলে লেফটেন্যান্ট আমজাদ, নিজাম, রউফ, রহমান এবং এসএসজির ডি কে উদ্দিন, এ কে আজাদ, আ. রাজ্জাক, এস এম রহমান, হাবিবুর রহমান, এম শাহজাহান, এম এ ওয়ালি প্রমুখের আট থেকে চৌদ্দ বছরের সাজা হয়। দেশ স্বাধীনের পর তারা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে এসেছিলেন। ধরা পড়লে বেগকেও হয়তো ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মারা হতো। কিন্তু মৃত্যুর পয়গাম হাতে নিয়েই তিনি স্বাধীনতার জন্য পালিয়ে এসেছিলেন পাকিস্তান থেকে।

দেশে এসে তার প্রথম দিকের যুদ্ধটি কেমন ছিল?

তার ভাষায়, “সাতই মার্চের পর একটা গ্রুপকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে একটা বাড়িতে আস্তানা গাড়ি। সেখানে পেট্রল আর সাবান এনে মনোটল ককটেল বানানো শুরু করি। অসহযোগে ঢাকায় ও আশপাশে যত ককটেল ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই ছিল নারায়ণগঞ্জের। এরপর চলে যাই কলাতিয়ায়। গগনদের বাড়িতে ক্যাম্প করি।

গাবুরা (সুন্দরবন) আর্মি ক্যাম্প দখলের পর। ডান থেকে: আ স ম ফিরোজ (সাবেক চিফ হুইপ), আফজাল, আকরাম, ক্যাপ্টেন বেগ, তারেক, প্রদীপ চন্দ্র ঘোষ, অস্ত্র হাতে সালাম (বর্তমানে বারডেমের অধ্যাপক)।

মার্চের ২৫ তারিখের পর ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাই নরসিংদীতে, ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের গ্রুপে। পাকিস্তানি সেনারা ঢাকা থেকে তারাবো দিয়ে নরসিংদীর দিকে অ্যাডভান্স হচ্ছে। আমাদের প্রথম অ্যাটাকেই পাকিস্তানি সেনাদের দুটি ট্রাক রাস্তার দুদিকে পড়ে যায়। ফলে হতাহত হয় অনেক। কিন্তু পরদিনই তারা ফুল ফেইজে বম্বিং করে অ্যাডভান্স হয়। ফলে টিকতে পারি না। তখন একটা লঞ্চে ফিরি নিজ শহর বরিশালে।”

বরিশালে ছাত্রদের ৩০জনের একটা গ্রুপকে রাইফেল ট্রেনিং দেওয়া শুরু করেন ক্যাপ্টেন বেগ। সাবেক চিফ হুইপ ফিরোজ, আফজাল, প্রফেসর সালামরাও ছিলেন ওখানে। ইছাকাঠি গার্ডেন, কাশিপুরে ট্রেনিং করান। জায়গাটা ছিল লাকুটিয়া জমিদার বাড়ির একটা মাঠে। কিন্তু পাকিস্তানি সেনারা বরিশাল দখল করলে তাদের চলে যেতে হয় আটঘর কুড়িয়ানায়। সেখানে রমা রানী দাস, বিথিকা রানী বিশ্বাস, সমীরন, হরিমন বিশ্বাসসহ আরও অনেক মেয়েকে ট্রেনিংও করান এই বীর যোদ্ধা।

মাহফুজ আলম বেগকে প্রথমে নয় নম্বর সেক্টরের অপারেশনাল কমান্ডার এবং পরে শমশেরনগর সাব-সেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে করতে তিনি আবেগে ভেসে যান, কিন্তু স্বরের ভেতর থাকে দৃঢ়তার এক অনমনীয় রেখা। যুদ্ধের ওই দুঃসাহসিক দিনগুলো মনে করতে গিয়ে বলেন, “গেরিলা ইউনিটগুলোকে কমান্ড করতাম। গোয়েন্দা রিপোর্ট এলে আমরা আর্মির মুভমেন্ট ধরে ফেলতাম। রেইড, কোথাও অ্যাম্বুশ, কোথাও কোনো বিওপি দখল। এমন রাত ছিল না, যে রাতে অপারেশন করিনি।”

তিনি ছোটদের নিয়ে গড়া এক বিশেষ ইউনিটের কথাও জানান। বয়স ১১ থেকে ১৪। সাতক্ষীরা, খুলনা আর বরিশালের ৪০জন কিশোরের দল। নাম দেওয়া হয় ‘হার্ড কর্পস অব সার্জেন্টস’, যদিও বাস্তবে তারা ছিল ‘বিচ্ছুবাহিনী’। তাদের এসএমজি, রাইফেল, গ্রেনেডের ওপর ট্রেনিং দেওয়া হয়; সঙ্গে নৌকা চালনার বিশেষ প্রশিক্ষণও। তাদের প্রধান কাজ ছিল গোলাবারুদ বহন করা, গোয়েন্দাগিরি করা আর পাকিস্তানি সেনাদের আস্থা অর্জন করে ক্যাম্পের ভেতরের খবর বের করে আনা।

এই শিশু যোদ্ধাদের নিয়ে মাহফুজ বেগ বলেন, “ওরা গল্প করত আর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কথা বলে পাকিস্তানিদের আস্থা অর্জন করত। পরে ক্যাম্পে ঢুকে ওদের ঠ্যাং টিপে দেখে আসত, কোথায় কী আছে। যেখানে অভিজ্ঞ যোদ্ধারা যেতেও চাইত না, সেখানে ওরা বলত, স্যার, আমি যাব।”

বরিশালে ওয়াপদা রেস্ট হাউজে সারেন্ডার করা পাকিস্তানি বেলুচ রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন কাহারকে (সাদা শার্ট পরিহিত) যখন ইন্ডিয়ান আর্মির কাছে তুলে দেন ক্যাপ্টেন বেগ (তার বাঁয়ে বসা)।

সেক্টর কমান্ডার এম এ জলিল একসময় পরিকল্পনা করেন পাকিস্তানি গানবোটকে পাল্টা আঘাত করার। পাকিস্তানি গানবোটে থাকত ৪০ মিলিমিটার বাফার গান। ওই সময়ে ইপিআরের স্টিল বডির লঞ্চ ছিল হাতে। ভারতীয় বাহিনীর চার্লি সেক্টরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার সালেককে অনুরোধ করে আনা হয় হেভি মেশিনগান, যা লঞ্চে ফিট করে বানানো হয় মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব গানবোট ‘বঙ্গ বজ্র’। এই দুটি লঞ্চকে ব্যবহার করেই চলে নৌ অভিযানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

মাহফুজ আলম বেগ জানান, প্রথম নৌ-অভিযানের সূচনা আসলে নয় নম্বর সেক্টর থেকেই। নৌ অপারেশন পরিচালনায় ছিলেন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট গাজী ও লেফটেন্যান্ট আলম।

তারপর আসে দোয়ারিকার ওই ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণের দৃশ্য। পাকিস্তানি সেনা ক্যাপ্টেন কাহারের নেতৃত্বে বেলুচ রেজিমেন্টের একটি কোম্পানি অবস্থান করত সেখানে। মুক্তিযোদ্ধারা পুরো ব্যাটালিয়ন দিয়ে ক্যাম্প ঘিরে ফেলে। পাল্টাপাল্টি গুলি চলে। বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা সহজে আত্মসমর্পণ করবে না, এটাই ছিল ধারণা। কিন্তু দীর্ঘ প্রতিরোধের পর তারা অস্ত্র ফেলে মাহফুজ আলম বেগদের কাছে আত্মসমর্পন করে।

তাদের দোয়ারিকা থেকে নিয়ে আসা হয় ওয়াপদায়। তখনকার ওই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত তিনি বর্ণনা করেন, “পাকিস্তান আর্মি মাথা নিচু করে ওয়াপদার দিকে মার্চ করছিল। আর ছেঁড়া শার্ট, ছেঁড়া লুঙ্গি পরা মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র উঁচিয়ে তাদের নিয়ে যাচ্ছিল। এই দৃশ্যটা কোনোদিন ভুলতে পারব না।”

তার কথার শেষে এসে থমকে যায় ঘর। তিনি ধীরে উচ্চারণ করেন, “আমি নামক কোনো শব্দ ছিল না মুক্তিযুদ্ধে। ছিল ‘আমরা’। এই দেশ আমার মায়ের দেশ। মাকে মুক্ত করাই তখন ছিল সবচেয়ে বড় কাজ। প্রতিটি যোদ্ধার বুকে তখন একটাই আগুন, মাতৃভূমিকে মুক্ত করা।”

স্বাধীনতা লাভের পর এই মুক্তিযোদ্ধা আর সামরিক বাহিনীতে ফিরে যাননি। মাহফুজ আলম বেগের মতো একাত্তরের এমন যোদ্ধা পৌরাণিক কোনো চরিত্র নয়, বরং বাঙালি বীর। তাদের রক্ত, ঘাম, ত্যাগে সৃষ্ট বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আজকের সবকিছুই আগামীর ইতিহাসের অংশ হবে তা নয়, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের ইতিহাস অনাদিকাল পর্যন্ত আমাদের আলোড়িত করবে।

কিন্তু ইতিহাসে অবদান রাখা দুঃসাহসিক এই কমান্ডারকে স্বাধীনতা লাভের পর যতটা সম্মান দেখানো প্রয়োজন ছিল ততটা হয়নি! বিভিন্ন সময় কত শত মানুষ পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বা সম্মান। কিন্তু সেখানে উপেক্ষিতই থেকেছেন মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন মাহফুজ আলম বেগ। স্বাধীনতা লাভের পর মেলেনি কোনো খেতাবও। ফলে অন্তরালেই থেকে গেছেন ক্যাপ্টেন বেগ।

শুধু তাই নয়, স্বাধীন দেশে মেলেনি তার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও। নিজের কোনো বাড়ি নেই। সাব-সেক্টর কমান্ডার হয়েও পাননি কোনো সরকারি প্লট। ফলে থাকছেন ভাড়া বাসায়।

পরিতাপের বিষয় রাষ্ট্র ভুলেই গেছে এই সাব-সেক্টর কমান্ডারকে। ফলে নিভৃতেই কাটছে তার জীবন। ওই জীবনে সঙ্গী হয়েছে নানা রোগ-শোক। বছরখানেক আগে হার্টঅ্যাটাক হয়েছিল। তখন চিকিৎসাও চলেছে আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায়। একাত্তরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন ক্যাপ্টেন বেগ আর এখন চলছে শরীরের সঙ্গেই তার যুদ্ধ। কিন্তু ওই যুদ্ধেও তিনি পাশে পাননি স্বাধীন রাষ্ট্রকে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে গৌরবোজ্জ্বল করা একজন ক্যাপ্টেন বেগ এখন বিবর্ণ জীবন কাটাচ্ছেন। সুবিধা প্রদান তো দূরের কথা, ন্যূনতম সম্মানার্থে রাষ্ট্রীয় কোনো অৃনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্রও পৌঁছায় না ক্যাপ্টেন বেগের কাছে।

তবুও কোনো আক্ষেপ নেই এই বীরের। স্বাধীন এই দেশ নিয়ে এখনও স্বপ্ন বিভোর হন এই সাব-সেক্টর কমান্ডার। শুধু বললেন, “স্বাধীন এই দেশে বেঁচে আছি এটাই তো সবচেয়ে বড় পুরস্কার।”

জীবন সায়াহ্নে একজন সাব-সেক্টর কমান্ডারের পাশে থাকা, তাকে সম্মান জানানো স্বাধীন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হওয়া উচিত। একাত্তরের বীরদের মূল্যায়ন করতে না পারলে এদেশে আর কোনো বীরের জন্ম হবে না। বরং আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবেই পরিগণিত হব।

ক্যাপ্টেন মাহফুজ আলম বেগের মতো একজন সাবসেক্টর কমান্ডারের পাশে থাকা আর তাকে সম্মান জানানো রাষ্ট্রের পক্ষে কি সত্যিই অনেক কঠিন?

মুক্তিযুদ্ধকালীন ছবিগুলো তুলেছেন: খোকন দাস মিন্টু দাস

লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে, প্রকাশকাল: ২৬ মার্চ ২০২৬

© 2026, https:.

এই ওয়েবসাইটটি কপিরাইট আইনে নিবন্ধিত। নিবন্ধন নং: 14864-copr । সাইটটিতে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো তথ্য, সংবাদ, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Show More

Salek Khokon

সালেক খোকনের জন্ম ঢাকায়। পৈতৃক ভিটে ঢাকার বাড্ডা থানাধীন বড় বেরাইদে। কিন্তু তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঢাকার কাফরুলে। ঢাকা শহরেই বেড়ে ওঠা, শিক্ষা ও কর্মজীবন। ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই ঝোঁক সংস্কৃতির প্রতি। নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। যুক্ত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও থিয়েটারের সঙ্গেও। তাঁর রচিত ‘যুদ্ধদিনের গদ্য ও প্রামাণ্য’ গ্রন্থটি ২০১৫ সালে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক মৌলিক গবেষণা গ্রন্থ হিসেবে ‘কালি ও কলম’পুরস্কার লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধ, আদিবাসী ও ভ্রমণবিষয়ক লেখায় আগ্রহ বেশি। নিয়মিত লিখছেন দেশের প্রথম সারির দৈনিক, সাপ্তাহিক, ব্লগ এবং অনলাইন পত্রিকায়। লেখার পাশাপাশি আলোকচিত্রে নানা ঘটনা তুলে আনতে ‘পাঠশালা’ ও ‘কাউন্টার ফটো’ থেকে সমাপ্ত করেছেন ফটোগ্রাফির বিশেষ কোর্স। স্বপ্ন দেখেন মুক্তিযুদ্ধ, আদিবাসী এবং দেশের কৃষ্টি নিয়ে ভিন্ন ধরনের তথ্য ও গবেষণামূলক কাজ করার। সহধর্মিণী তানিয়া আক্তার মিমি এবং দুই মেয়ে পৃথা প্রণোদনা ও আদিবা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button