মুক্তিযুদ্ধ

১৯৭১: এই দেশের মাটির সঙ্গে মিশে আছে আমার বাবার রক্ত

“স্বাধীন দেশ যারা চায়নি, তারা কীভাবে এ দেশটার মঙ্গল চাইবে? শহীদ পিতার হত্যাকারী হিসেবে মৃত্যুর আগপর্যন্ত তাদের ঘৃণা করব।”

“শার্শায় আমাদের এক সিনিয়র ভাই ছিলেন। নাম কমরেড দাউদ হোসেন। স্বাধীন পূর্ববাংলা নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন তিনি। তার উদ্যোগেই মাঝেমধ্যে পাঠচক্র করতাম, কপোতাক্ষ নদের ধারে ঝাপা নামক স্থানে। নানা বিষয়ে আলোচনাও করতেন তিনি। পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, এই বোধটা মূলত তখন থেকেই তৈরি হয়েছিল।

বাবাও প্রায়ই বলতেন, ‘মার্শাল ’ল দিয়ে দেশ চলবে না। এই পাকিস্তান এভাবে টিকবে না।’ এসব কারণে রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনে সচেতনভাবেই সক্রিয় ছিলাম।

৭ মার্চের পর থেকে যশোর নাভারণে আমরা সিরাজুল হক মঞ্জুর নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। সীমান্ত ছিল খুব কাছেই। সহজে যাওয়া-আসা করা যেত কলকাতা ও বনগাঁয়ে।

বনগাঁয়ে কোরার বাগান নামে একটা ক্লাব ছিল। সিরাজুল হক মঞ্জু আগে গিয়ে ওদের সঙ্গে কথা বলে এসেছিলেন। যদি যুদ্ধ বাধে তবে আশ্রয়সহ গোলাবারুদ দিয়েও তারা সাহায্য করবেন। একাত্তরের ২৩ মার্চে আমাকে ও বন্ধু মোজাফফর আহমেদ মোহনকে ওখানে পাঠানো হয়।

সেখানে ওরা আমাদের নিয়ে যায় এক নকশালের বাড়িতে। ওই বাড়িতে বোমা বানানো হতো। তখন পরিকল্পনা ছিল হাতবোমা বানিয়েই পাকিস্তানি আর্মিদের মোকাবিলা করতে পারব।

বোমা বানাতে পারদর্শী নকশালদের একটি গ্রুপ নিয়ে ২৫ মার্চ রাতে আমরা নাভারণে পৌঁছি। বোমা বানানোর প্রস্তুতি নিই তখন। বোমার জন্য সবাই মিলে সংগ্রহ করি জালের কাঠি আর কেরোসিন তেল। অতঃপর নাভারণ স্কুলে বসেই বোমা বানানো হয়। কিন্তু সেটি খুব বেশি কাজে আসেনি। কারণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো একটি শক্তিশালী বাহিনীকে হাতবোমা দিয়ে মোকাবেলা করা একেবারেই সম্ভব ছিল না।”

একাত্তরের কথা এভাবেই তুলে ধরেন মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কবীর। এক সকালে তার বাড়িতে বসেই আলাপ হয় যুদ্ধদিনের নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে।

ডা. আজিজুর রহমান ও আয়নাল হায়াতের চতুর্থ সন্তান আলমগীর কবীর। বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ রেল বাজার এলাকায়।

লেখাপড়ায় হাতেখড়ি বুরুজ বাগান প্রাইমারি স্কুলে। পরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন বুরুজ বাগান হাই স্কুলে। ১৯৬৭ সালে ম্যাট্রিক পাশ করে তিনি প্রথমে ভর্তি হন যশোর এমএম কলেজে, পরে চলে যান নারায়ণগঞ্জে, বড় ভাই জাহাঙ্গীরের কাছে। সেখানে গিয়ে তিনি ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হন তোলারাম কলেজে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

আলাপচারিতায় ফিরে আসি একাত্তরে। আলমগীর কবীর তুলে ধরেন তার এলাকার প্রতিরোধ যুদ্ধের কথা।

তার ভাষায়, “এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পুলিশ, ইপিআর-এ যারা বাঙালি ছিলেন তারাই প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে নানা সহযোগিতায় থেকেছি আমরা। যশোর ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত চলে গেছি। রাস্তায় পেট্রোল ঢেলে আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয়। বাইরে থেকে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে খাবার যাওয়াও বন্ধ করা হয়। তখন মনে হয়েছে দেশটাই যেন স্বাধীন হয়ে গেছে।

পাকিস্তানি সেনারা তখনও ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়নি। পরে তারা বের হয়ে ম্যাসাকার করতে করতে এগোয়। আত্মরক্ষা করা ছাড়া আমাদের তখন পথ ছিল না। ফলে সবাই বেনাপোল দিয়ে চলে যাই বনগাঁয়ে।

এদিকে মুসলিম লীগের লোকের আসকান আর জিন্না টুপি পরে প্রায় প্রস্তুত হয়ে বসে ছিল। পাকিস্তানি আর্মিদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে তারা। তখন আমরা হয়ে গেলাম দুস্কৃতকারী, ইসলামের শত্রু আর ভারতের চর!”

বনগাঁ থেকেই আলমগীর কবীর চলে যান ট্রেনিংয়ে। তাদের ছিল সিএনসি স্পেশাল ট্রেনিং। আড়াই মাস ট্রেনিং হয় বিহারের চাকুলিয়ায়, পুরাতন পরিত্যক্ত একটি এয়ারপোর্টের ভেতরে।

তার ভাষায়, “ওখানে আমরা ছিলাম দ্বিতীয় ব্যাচ। ট্রেনিং খুব সহজ ছিল না। পানির কষ্ট ছিল খুব। সাপের কামড়ে মারা গিয়েছিল একজন। তখন স্নেক ট্রেন্স করে থাকতাম। চারদিকে গর্ত করে দেয়া হতো, যাতে সাপ এলেও ওই গর্তে পড়ে যায়। আমাদের গ্রুপের লিডার ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাশেম।

ট্রেনিং শেষ আমাদের পাঠানো হয় কল্যাণীতে, আট নম্বর সেক্টর হেডকোয়ার্টারে। অস্ত্র পাই সেখান থেকেই। পরে সাবসেক্টর কমান্ডার কেএন হুদা আমাকে কমান্ডার করে লক্ষণপুর নামে একটি গ্রামে পাঠিয়ে দেন। সেখানে একটা স্কুলে থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অপারেশন করতাম।”

কেমন ছিল অপারেশনের ধরন?

তিনি বললেন, “কমান্ডার ছিলাম। থানা কমান্ডার। আমার অধীনে মুক্তিযোদ্ধাদের ৭টা গ্রুপ ছিল। তখন পাকিস্তানিদের অস্থির করে তোলাটাই ছিল কাজ। দেশটা যে স্বাভাবিক নেই, গেরিলা অ্যাটাকের মাধ্যমে এটি বোঝানো হতো।

বেনাপোলে তখন একটা ট্রেন যাতায়াত করত। পাকিস্তানি সেনারা ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনেও একটা অতিরিক্ত বগি লাগিয়ে রাখত। কোথাও যদি মাইন বার্স্ট হয় তখন যেন শুধু সামনের বগিটাই উড়ে যায়।

আমরা দুটি গ্রুপ করলাম। একটা গ্রুপ এক্সপ্লোসিভ লাগাবে দুই পাশের রেল লাইনের জয়েন্টে। আরেকটা গ্রুপ রাখলাম যদি কেউ আসে তাদের প্রতিহত করবে।

রাত তখন আড়াইটা বা তিনটা হবে। আমরা রেল লাইনে এক্সপ্লোসিভ লাগিয়ে দূরে গিয়ে শুয়ে পড়ি। পরে বিকট শব্দে রেল লাইন উড়ে যায়। লাইন উড়িয়ে দেয়ায় ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। এই খবরটি ওইসময় দিল্লির বাংলা সংবাদেও প্রচার করা হয়েছিল।

তখন বোনাপোল ছিল ভারতের সাথে যোগাযোগের একমাত্র রোড। ওখানে বিশাল বিশাল গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে আমরা ব্লক করে দিতাম।

শার্শা থানার নিজামপুরে একটি গ্রাম্য বাজার ছিল। আহমেদ ও ওমরদের ছয় জন মুক্তিযোদ্ধার একটা গ্রুপ ওখানে পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণের মুখে পড়ে। ফলে ওমরসহ তিনজন ছেলে ওখানেই শহীদ হয়।”

ডিসেম্বরের প্রথমেই অ্যামুনিশন আনতে হুদা সাহেবের কাছে যান আলমগীর কবীর। সীমান্তে তখন কারফিউ জারি করা ছিল। ওদের একটার পর একটা ট্যাংক ভেতরে ঢুকছিল। ছুটিপুরে ইছামতি নদীর ওপর তারা ফ্লোটিং ব্রিজও তৈরি করে নিয়েছিল।

হুদা সাহেব আলমগীরকে বললেন, তোমার আর অ্যামুনেশন নিতে হবে না। দেশ স্বাধীন হয়ে যাচ্ছে। তুমি যাও, পাতাকা বানিয়ে রেডি থাকো।

ফিরে এসেই তিনি দেখেন নাভারণ মুক্ত হয়ে গেছে। তারা গ্রুপ করে তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে যুক্ত থাকেন।

একাত্তরে আলমগীর কবীরের বাবা ডা. আজিজুর রহমানের বয়স ছিল ৭২ বছর। তা সত্ত্বেও তাকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। তার লাশও মেলেনি কোথাও। ফলে স্বাধীন দেশের মাটির সঙ্গে মিশে আছে শহীদ আজিজুর রহমানের রক্তও।

তিনি পাকিস্তানের গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সোচ্চার ছিলেন। এছাড়া প্রতিনিয়ত মুক্তিযোদ্ধাদের লড়ে যাওয়ার সাহসও জোগাতেন। ছেলে আলমগীর কবীর মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছে—এ খবর ভালোভাবে নেয় না শান্তি কমিটির স্থানীয় লোকেরা (যারা পরে রাজাকার বাহিনীতেও ছিলেন)। তারাই পাকিস্তানি সেনাদের চিনিয়ে দেয় আজিজুর রহমানের বাড়িটি।

পিতার শহীদ হওয়ার বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কবীর বলেন, “শার্শা থানার প্রথম শহীদ বাবা। আমার মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার অপরাধেই বাবাকে ধরে নিয়ে যায় ওরা।

৯ এপ্রিল ১৯৭১। নাভারণ রেল বাজার এলাকাটি পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে চলে যায়। পরিবারের সদস্যরা তখন সীমান্তবর্তী গ্রাম সালতায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু বয়সের কারণে নাভারণ রেল বাজারস্থ নিজ বাড়িতে থেকে যান বাবা। ১৪ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী ওই বাড়িতেই হানা দিয়ে তাকে ধরে নিয়ে যায়।”

ওই সময় কলকাতা পিজি হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক ডা. এস এন বসু নাভারণ হাসপাতালে মুক্তিযুদ্ধে আহতদের জন্য একটি চিকিৎসা ক্যাম্প খোলেন। ওই ক্যাম্পে আজিজুর রহমানের আরেক পুত্র নাজমুল আহসান স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দিনরাত কাজ করেছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী নাভারণ দখল করলে ওই চিকিৎসা ক্যাম্পটি সেখান থেকে বনগাঁয় স্থানান্তর করা হয়। ফলে ১৩ এপ্রিল নাজমুল আহসান পাকিস্তানি সেনাদের দৃষ্টি এড়িয়ে তার বাবা আজিজুর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন বাড়িতে।

কথা হয় নাজমুল আহসানের সঙ্গে। একাত্তরের ওই দিনের ঘটনা তিনি বললেন যেভাবে, “১৪ এপ্রিল ১৯৭১। বাবাসহ আমি রাতে খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ওই সময়ে দরজায় প্রচণ্ড করাঘাতের শব্দ পাই। কে এলো? দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক অফিসার সাত-আটজন সশস্ত্র সেনাসহ ঘরে প্রবেশ করেই সমস্ত ঘর তল্লাশি করে।

‘মুক্তি কাহা হ্যায়’ বলে তারা ধমকাতে থাকে। দশ-পনের মিনিট তল্লাশির পর তারা বাবাকে (ডা. আজিজুর রহমান) গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

আমি তাদের পিছু নিই। ঘরের বাইরে উঠানের কাছে আসতেই স্থির হয়ে যাই। দেখি, তোফাজ্জেল মুন্সির ছেলে রাজাকার আব্দুল কাদের শুকুরকে। সে-ই খবর দিয়ে পাকিস্তানি আর্মিদের নিয়ে আসে। শুকুর আমাকে দেখে বেশ অপ্রস্তুত হয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। তখন তো কারফিউ ছিল। শুকুর কীভাবে এল! বাবার গ্রেপ্তার ও হত্যায় সহযোগিতা ছিল এই রাজাকারের।”

কোথায় মেরেছিল জানতে পেরেছেন?

“নাভারণে ঢকের বাগান ও কাচারি বাগান নামক জায়গা আছে। একাত্তরে পাকিস্তানি সেনারা ওখানেই স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে ধরে এনে গুলি করে মেরে ফেলে রাখত। হয়তো ওখানেই মেরেছে বাবাকে।

বাবার লাশ পাইনি। ফলে তার কবরও নেই। স্বাধীন এই দেশের মাটির সঙ্গে মিশে আছে আমার বাবার রক্ত। ফলে এই দেশ এবং দেশের মাটি আমাদের কাছে অন্যরকম পবিত্র!”

স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কবীর অকপটে তুলে ধরেন নিজের অনুভূতি। তার ভাষায়, “একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধীরা যতই পাক-পবিত্র হয়ে আসুক না কেন, আমাদের কাছে ওরা শহীদ পিতার হত্যাকারী হিসেবেই থাকবে। মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রিয়জন হারাননি, কাছ থেকে দেখেননি রাজাকার ও আলবদরদের কর্মকাণ্ড, তারা এটি উপলব্ধিও করতে পারবেন না। স্বাধীন দেশ যারা চায়নি, তারা কীভাবে এ দেশটার মঙ্গল চাইবে? শহীদ পিতার হত্যাকারী হিসেবেমৃ ত্যুর আগপর্যন্ত তাদের ঘৃণা করব আমরা।”

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

“ওটা একটা রাজনৈতিক যুদ্ধ। রাজনীতিটা শেখ মুজিব ও তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের হাতেই ছিল। মুক্তিযুদ্ধে ভারত আন্তরিকভাবেই পাশে ছিল। প্রভাব খাটানোর বিষয় আমরা দেখিনি।”

স্বাধীন দেশে ভারতের তাঁবেদারি করার কথাও এখন বলছে কেউ কেউ। মুচকি হেসে এ প্রসঙ্গে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন যেভাবে, “তাঁবেদারি আসলে কাকে বলে? প্রথম মহাযুদ্ধ হয়েছে ৮০ বছর হয়ে গেল। জার্মানি গিয়ে দেখেন ওখানে বিশাল এলাকাজুড়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার বেইস আছে। ইচ্ছেমতো তাদের প্লেন নামে আর ওঠে। এটা আছে জাপানেও। কিন্তু আমাদের এখানে কি ভারতের সামরিক ঘাঁটি আছে।

আমি মনে করি, মানবিক দিক দেখেই আমাদের তারা সমর্থন দিয়েছিল। এরপর তো তারা চলে গেছে। কোনো কাজে তো তারা বাধাও দেয়নি!”

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার পাঁয়তারা বা ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করেন অনেকেই। মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কবীর অকপটে বলেন, “এটা হলো স্বাধীনতাবিরোধী মনোভাব। মুক্তিযুদ্ধ একটা ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠিত সত্য। যুদ্ধ করেই আমরা একটা পতাকা, সংবিধান ও একটা রাষ্ট্র পেয়েছি। এখন স্বাধীনতার ইতিহাসের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছে তারা তো রাষ্ট্রদ্রোহী হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা তো হয়নি। আবার ভারতীয় জুজুর ভয়ও দেখানোও হয়েছে। একাত্তরেও এটাই করত পাকিস্তানি ও যারা স্বাধীনতাবিরোধী ছিল তারা।”

কথা ওঠে পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কবীর তাদের উদ্দেশ্যে বললেন শেষ কথাগুলো। ঠিক এভাবে, “মুক্তিযুদ্ধের যে সংগ্রাম, যে প্রাপ্তি, যে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, সেগুলোকে তোমরা শ্রদ্ধা জানিও। বীরত্বের ইতিহাসকে পাঠ করে, বীরদের স্মরণে রেখ। একাত্তরের ইতিহাসের ওপর দাড়িয়ে তোমরা গর্ববোধ কর। একটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। ওই দেশটা সঠিক পথে রাখার দায়িত্ব এখন তোমাদেরই।”

লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে, প্রকাশকাল: ১ মার্চ ২০২৬

© 2026, https:.

এই ওয়েবসাইটটি কপিরাইট আইনে নিবন্ধিত। নিবন্ধন নং: 14864-copr । সাইটটিতে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো তথ্য, সংবাদ, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Show More

Salek Khokon

সালেক খোকনের জন্ম ঢাকায়। পৈতৃক ভিটে ঢাকার বাড্ডা থানাধীন বড় বেরাইদে। কিন্তু তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঢাকার কাফরুলে। ঢাকা শহরেই বেড়ে ওঠা, শিক্ষা ও কর্মজীবন। ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই ঝোঁক সংস্কৃতির প্রতি। নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। যুক্ত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও থিয়েটারের সঙ্গেও। তাঁর রচিত ‘যুদ্ধদিনের গদ্য ও প্রামাণ্য’ গ্রন্থটি ২০১৫ সালে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক মৌলিক গবেষণা গ্রন্থ হিসেবে ‘কালি ও কলম’পুরস্কার লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধ, আদিবাসী ও ভ্রমণবিষয়ক লেখায় আগ্রহ বেশি। নিয়মিত লিখছেন দেশের প্রথম সারির দৈনিক, সাপ্তাহিক, ব্লগ এবং অনলাইন পত্রিকায়। লেখার পাশাপাশি আলোকচিত্রে নানা ঘটনা তুলে আনতে ‘পাঠশালা’ ও ‘কাউন্টার ফটো’ থেকে সমাপ্ত করেছেন ফটোগ্রাফির বিশেষ কোর্স। স্বপ্ন দেখেন মুক্তিযুদ্ধ, আদিবাসী এবং দেশের কৃষ্টি নিয়ে ভিন্ন ধরনের তথ্য ও গবেষণামূলক কাজ করার। সহধর্মিণী তানিয়া আক্তার মিমি এবং দুই মেয়ে পৃথা প্রণোদনা ও আদিবা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button