আদিবাসীমুক্তিযুদ্ধ

সেবস্তিয়ান মার্ডী : এক আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা

মাদলের তাল ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বাড়ছে এতদল নারী কন্ঠের সমবেত গানের সুর। গানের সাথে তাল মিলিয়ে নাচছে তারা। হলদে শাড়ি জড়ানো শরীর। হাতে সাদা শাখা আর খোপায় লাল জবা ফুল। হাত ধরাধরি করে পা মিলিয়ে নাচছে তারা। দুএকটা পা জড়িয়ে আছে নূপুরগুলো। ধুতি আর পাগড়ি পড়া এক আদিবাসী উদাসী ঢঙে মাদল বাজাচ্ছে। চারপাশে ঘিরে আছে গ্রামের সুধিজনেরা। এভাবেই চলছিল সাঁওতালদের খেমটা নাচের আসরটি।
খেমটা নাচের এই দলটি সেবস্তিয়ান মার্ডীর। সেবস্তিয়ান বেশ আমোদি। খানিকটা নাচ-গান পাগলও। বিনে পয়সাতেই তার দলটি নাচ করে আশেপাশের আদিবাসী গ্রামগুলোতে। বিশেষ করে পূজার সময়টাতে এদের পাওয়াই দায়।
অন্যের জমিতে চাষ করে যা পায় তাই দিয়ে কোনরকমে চলে সেবস্তিয়ানের পরিবারটি। আছে নানা অভাব অনটন। তবুও গান ছাড়ে না সেবস্তিয়ান। মাঝে মধ্যে অকেজো হয়ে পড়ে থাকে পুরোন মাদল আর ডিংগাটি। টাকা জমিয়ে বাদ্যগুলো কোন রকমে ঠিক করতে পারলেই আবারও শুরু হয় নাচগানের আসর।
দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম বেতুড়া। এ গ্রামেই আদিবাসীদের নাচ হচ্ছিল ‘হামরা দিনাজপুরিয়া’ নামের অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠান ঘিরে প্রতি বছরই এখানে চলে আদিবাসীদের তীরধনুক নিক্ষেপ, তুমরি খেলা ছাড়াও বাঙালি কৃষকদের জন্য মজার সব আয়োজন। সে অর্থে এটি এ অঞ্চলের আদিবাসী ও বাঙালিদের মিলন মেলা।
পুরষ্কার বিতরণের পর শুরু হয় সেবস্তিয়ান মার্ডীর নেতৃত্বে সাঁওতালদের খেমটা নাচ। আমরা নাচ দেখছি মুগ্ধ হয়ে। স্থানীয় সাংবাদিক ও অনুষ্ঠানটির প্রধান উদ্যোগতা এম এ কুদ্দুস। পাশ থেকে সে জানালো সেবস্তিয়ান একজন আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা। কুদ্দুসের কথায় আমরা খানিকটা অবাক হই। আরো অবাক হই যখন জানি তিনি অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের মতো সনদধারী কোন মুক্তিযোদ্ধা নন। সনদহীন নিভৃত এক মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি নিজেকে তেমন পরিচিত করেন না। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার কোন আক্ষেপ আর চাওয়া পাওয়াও নেই।

বিকেলের দিকে অনুষ্ঠান শেষ হতেই সেবস্তিয়ান ফিরে যান তার দলটি নিয়ে। খানিকপরে আমরাও রওনা হই সেবস্তিয়ানের বাড়িমুখো। আমাদের সঙ্গি হয় এম এ কুদ্দুস।

বুড়ির হাটের পাশ দিয়ে দুএকটা বাড়ি পেরোতেই কোন জনবসতি চোখে পড়ে না। চারপাশে শুধুই ধানক্ষেত। দূরে চোখে পড়ে মাটি আর ছনে ছাওয়া দুএকটা বাড়ি। কুদ্দুস জানলো এখানে এক সময় সাঁওতালদেরই আধিক্য ছিল। সন্ধ্যে হলেই আদিবাসী পাড়াগুলো থেকে ভেসে আসতো বাদল আর মাদলের শব্দ। সাঁওতালদের সেই অবস্থা এখন আর নেই। চরম দারিদ্রতায় অধিকাংশই ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রীস্টান হয়েছে। কিন্ত তবুও দারিদ্রতা তাদের পিছু ছাড়ে নি। তারা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে তাদের ধর্ম কেন্দ্রিক সংষ্কৃতিগুলো। কুদ্দুস জানালো সেবস্তিয়ানের পরিবার বহুপূর্বেই ধর্মান্তরিত হয়েছে। ফলে একধরণের ধর্মকেন্দ্রিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে সেবস্তিয়ানসহ আদিবাসী পরিবারগুলো। খ্রীস্টাদের কাছে তারা আজ ‘আদিবাসী’। আর নিজ জাতির মানুষদের কাছে তারা জাতিত্যাগী ‘খ্রীস্টান’। ফলে এক ধরণের দুঃখবোধ নিয়েই টিকে আছে ধর্মান্তরিত আদিবাসীরা।

দূর থেকে সেবস্তিয়ানের বাড়ি দেখান কুদ্দুস। আমরা সে দিকেই এগোই। যেতে যেতে কুদ্দুসের সাথে কথা চলে দিনাজপুরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। এম এ কাফি সরকারের মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুর বইয়ের উদ্বৃতি দিয়ে সে জানালো দিনাজপুরে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী শুরু হয় কুটিবাড়ী থেকে। দিনাজপুর-রংপুর জেলা নিয়ে ছিল তখনকার ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস এর দিনাজপুর সেক্টর। সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল শহরের দক্ষিণ -পশ্চিম উপকন্ঠ কাঞ্চন নদীর তীরে কুঠিবাড়ীতে।
সাতাশে মার্চ ১৯৭১। কুটিবাড়ীর আম বাগানে পাওয়া যায় ১৭ জন নিরাপরাধ বাঙালির লাশ। তাদের হত্যা করেছিল পাঠান পাঞ্জাবী অবাঙ্গালী ইপিআররা। আটাশে মার্চ বাঙালি অফিসার ও জওয়ানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরলো পাঠান পাঞ্জাবি অফিসাররা। সে থেকেই শুরু। কুটিবাড়ির ক’জন বাঙালি ইপিআর জওয়ানই শুরু করেছিলেন সেই সংগ্রাম। কথায় কথায় আমরা সেবস্তিয়ানের বাড়ির কাছাকাছি চলে আসি।
আমাদের খবর পেয়ে ছোট্ট একটি মাটির ঘর থেকে বের হয়ে আসে সেবস্তিয়ান। জোহার বলে খাটিয়া টেনে বসতে দেয় আমাদের। আপনি তো একজন মুক্তিযোদ্ধা। এমন প্রশ্নে সেবস্তিয়ান নিশ্চুপ থাকে। উত্তর না দিয়ে বলে, ‘ বাবু কি হবে আর এসব শুনে’। স্মৃতি হাতরে সেবস্তিয়ান বলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নানা কাহিনী।
রাগদা মার্ডী আর মেরী মুরমুর ছেলে সেবস্তিয়ানের মার্ডী। বাবা মা ধুমধাম করে কসবা মিশনের ছারা হাজদার সাথে বিয়ে দেয় সেবস্তিয়ানের। বিয়ের বেশ কিছুদিন পরেই শুরু হয় যুদ্ধ। সেবস্তিয়ানের গ্রামের ওপারে পশ্চিম দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ থানার রাধিকাপুর স্টেশন। সেবস্তিয়ান জানালো সে সময়টাতে তারা দেখতো দলে দলে লোক তাদের সর্বস্ব ফেলে সীমান্তপথে ভারতে যাচ্ছে।

এক সময় তারাও পূর্বপুরুষের ভিটাবাড়ি ফেলে পাড়ি জমায় ভারতের শরণার্থী শিবিরে। তারা থাকতো গঙ্গারামপুরের কাছে শীববাড়ি ইয়োথ ক্যাম্পের পাশেই। দেশ থেকে আসা লোকদের দুঃখগাথা কাহিনী শুনতেন এই যোদ্ধা। কিন্ত নিজের পরিবার ফেলে যুদ্ধে যাওয়ার কথা তিনি চিন্তাও করতে পারতেন না। নিজের জীবনের প্রতি এক ধরণের মায়া ছিল তার। অকপটেই সে কথাগুলো বলছেন সেবস্তিয়ান।
এক সময় সেবস্তিয়ানের পরিচয় হয় জর্জ ভাইয়ের সাথে। জর্জ ভাই ছিলেন শীববাড়ি ইয়োথ ক্যাম্পের ৭ নং হামজাপুর সাব সেন্টারের কমান্ডার। তিনি সেবস্তিয়ানসহ শিবিরের আশেপাশের তরুণ ও যুবকদের যুদ্ধে যেতে উৎসাহিত করতেন। সেবস্তিয়ান বলেন জর্জ ভাই বলতেন, ‘চলেন যুদ্ধ করি, দেশে ফিরি, দেশ হলো মায়ের মতোন, আমরা তাকে দুসমনের হাতে ফেলে রাখতে পারি না’। বলতে বলতেই সেবস্তিয়ানের চোখ ভিজে যায়। জর্জ ভাইয়ের কথা আজো তার হৃদয়ে বাজে। মূলত জর্জ ভাইয়ের উৎসাহেই নিজের মাকে ফেলে দেশমাতাকে রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে যায় সেবস্তিয়ান।
১৯৭১ সালের মে মাসের শেষের দিকের কথা। পরিচিত লিয়াকত, আলী সেক্রেটারী,পিউস, জহোনাসহ প্রায় ৫০জন ট্রেনিং নেন শিববাড়ীর তালদীঘিতে। সেবাস্তিয়ান জানালো তাদের মধ্যে সাহসী যোদ্ধা ছিল পিউস। তারা যুদ্ধ করতো রামসাগর এলাকায়। তবে জর্জ ভাই অধিকাংশ সময়েই তাকে ক্যাম্পের দায়িত্বে ব্যস্ত রাখতেন।
আদিবাসী বলে মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলনা কোন জাতপাত। সবার মা ছিল দেশ। তাকে মুক্ত করাই ছিল লক্ষ্য। মুচকি হেসে সেবস্তিয়ান সাঁওতাল ভাষায় বলেন, ‘ যত হরগি মওজ গেলে তাহেনা বইহা লিকা’ অর্থ্যাৎ সবাই ছিলাম ভাই ভাই হিংসা বিদ্বেষ ছিলো না।

যুদ্ধের সময়ের সহযোদ্ধাদের কথা মনে হলে এখনো তার মন কাদে। প্রতিদিন ক্যাম্প থেকে বেড়োত এক একটা দল। দুএকজনের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল সেবস্তিয়ানের। অপারেশন থেকে ফিরার পর সে দেখতো তার সেই বন্ধুটি ফিরে নি। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। অনেকেই ফিরতো রক্তাক্ত হয়ে। কত জনই শহীদ হয়েছে অথচ তাদের পকেটে পাওয়া যেত প্রিয়জনকে লিখা কয়েকটা চিঠি।
সেবস্তিয়ান জানালো দেশ স্বাধীনের পর তারা সবাই জড়ো হয় দিনাজপুর স্টেডিয়ামে। কয়েকদিন থাকার পরে চলে আসেন নিজের ভিটায়। শুরু করেন পূর্বপুরুষদের কৃষি পেশা।
মুক্তিযুদ্ধের সনদপত্রের কথা উঠতেই চুপ হয়ে যান সেবস্তিয়ান। ভবিষ্যতে সুবিধার কথা চিন্তা করে তো কেউ মুক্তিযুদ্ধে যায় নি। যুদ্ধের পরে কাগজপত্রগুলো পড়ে ছিল ঘরে। একবারের বন্যায় ভেসে যায় অধিকাংশ কাগজগুলোই । এখন অবলম্বন শুধু ক্যাম্পের ডিসচার্জ সনদটি।
বাড়ি সীমান্তবর্তী হওয়ায় কি ভাবে মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেতে হয় তা জানা ছিল না সেবস্তিয়ানের। তার পাল্টা প্রশ্ন ,‘ সনদ দিয়েই কি মুক্তিযোদ্ধাদের চেনা যায়’। সে জানালো যুদ্ধ করেছি দেশের জন্য। আজ যখন দেশ হলো আইন হলো তখন দেখি মুক্তিযুদ্ধের সনদ নিয়ে অমুক্তিযোদ্ধারাও পাচ্ছে সরকারী সম্মান ও সহযোগিতা।
জাতীয় দিবসগুলোতে উপজেলা সদরে সরকারিভাবে চলে কুচকাওয়াজ আর মুক্তিযোদ্ধদের সংবর্ধনার। বেতুড়া থেকে সেই অনুষ্ঠান দেখতে যান সেবস্তিয়ান। দূর থেকে দেখেন মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার অনুষ্ঠানটি। কিন্ত সরকারি কাগুজে সনদ না থাকায় কোন সম্মান মিলে না এই যোদ্ধার। ফলে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বাড়ি ফিরেন সেবস্তিয়ান।
মুক্তিযোদ্ধা সেবস্তিয়ান বিষয়ে আমাদের কথা হয় দিনাজপুর জেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার সিদ্দিক গজনবী , বিরল উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার রহমান আলী ও জর্জ ভাইয়ের ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা রবাট আরএন দাশের সঙ্গে। তারা সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন সেবস্তিয়ান একজন মুক্তিযোদ্ধা। একই সাথে তারা দুঃখ প্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় সেবস্তিয়ানের নাম না থাকায়। বিরলের ডেপুটি কমান্ডার জানালেন স্বাধীনের পর সেবস্তিয়ান সনদদের জন্য যোগাযোগ না করায় তার সনদ মিলে নি। সনদ না থাকলে কি কোন চিহিৃত মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানিত করা যায় না। এমন প্রশ্নে নিঃচুপ থাকেন তিনি।
সেবস্তিয়ানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা ফিরতি পথ ধরি। সন্ধ্যা পেরিয়ে তখন রাত। চারপাশে ¯িœগ্ধ জো¯œার আলো। মনে ভাবনা আসে স্বাধীনের এতো বছর পরে সরকারি নিয়মের পাহাড় ডিঙ্গিয়ে মিলবে কি মুক্তিযোদ্ধা সেবস্তিয়ানের কাগুজে সনদ কিংবা কোন সম্মান। নাকি মুক্তিযুদ্ধে সহযোদ্ধাদের স্মৃতি বুকে নিয়েই শেষ হয়ে যাবে আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা সেবস্তিয়ান মার্ডীর জীবন প্রদীপ।

লিখাটি প্রকাশিত হয়েছে নতুনদেশে ১৮ মে ২০১১/ ১০ এপ্রিল ২০১১ এ ইউ.কে বিডিনিউজে

© 2011 – 2020, https:.

এই ওয়েবসাইটটি কপিরাইট আইনে নিবন্ধিত। নিবন্ধন নং: 14864-copr । সাইটটিতে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো তথ্য, সংবাদ, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Show More

Salek Khokon

সালেক খোকনের জন্ম ঢাকায়। পৈতৃক ভিটে ঢাকার বাড্ডা থানাধীন বড় বেরাইদে। কিন্তু তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঢাকার কাফরুলে। ঢাকা শহরেই বেড়ে ওঠা, শিক্ষা ও কর্মজীবন। ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই ঝোঁক সংস্কৃতির প্রতি। নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। যুক্ত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও থিয়েটারের সঙ্গেও। তাঁর রচিত ‘যুদ্ধদিনের গদ্য ও প্রামাণ্য’ গ্রন্থটি ২০১৫ সালে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক মৌলিক গবেষণা গ্রন্থ হিসেবে ‘কালি ও কলম’পুরস্কার লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধ, আদিবাসী ও ভ্রমণবিষয়ক লেখায় আগ্রহ বেশি। নিয়মিত লিখছেন দেশের প্রথম সারির দৈনিক, সাপ্তাহিক, ব্লগ এবং অনলাইন পত্রিকায়। লেখার পাশাপাশি আলোকচিত্রে নানা ঘটনা তুলে আনতে ‘পাঠশালা’ ও ‘কাউন্টার ফটো’ থেকে সমাপ্ত করেছেন ফটোগ্রাফির বিশেষ কোর্স। স্বপ্ন দেখেন মুক্তিযুদ্ধ, আদিবাসী এবং দেশের কৃষ্টি নিয়ে ভিন্ন ধরনের তথ্য ও গবেষণামূলক কাজ করার। সহধর্মিণী তানিয়া আক্তার মিমি এবং দুই মেয়ে পৃথা প্রণোদনা ও আদিবা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button